কেমন আছো আমিনা?
আজ তোমার কথা খুব মনে পড়ছে
প্রতিদিন ভাবি তোমার কথা! কিন্তু
আজ তোমায় নিয়ে খাতার পাতায়
এই কবিতা শুধুই তোমার জন্য।
আমি জানি তুমি ভালো নেই।
তুমি সেই যে গেলে অন্ধকার রাতে
বাবার হাত ধরে, সেই খবর কেউই রাখেনি।
গ্রামের প্রতি ভালোবাসা আর প্রাণের মহেশের
গমনকালের সাক্ষী হয়ে ছিল শুধুমাত্র
সেই বাবলাগাছ- যার তলায় থমকে দাড়িয়ে
আমিনা হু হু করে কেঁদেছিল।
জানিনা সেদিন নক্ষত্রখচিত কালো আকাশ কি
নিঃশব্দে দেখেছিল তোমার তামাশা? নাকি
সে-ও কেঁদেছিল, ভাগ করে নিয়েছিল কি
তোমার চোখের জল?
আমিনা! তুমি কি এখনো আছো ফুলবেড়ের
চটকলে? যেখানে মেয়েদের থাকে না ইজ্জত!
তুমি ভালো আছো তো আমিনা?
জানিনা কেন তোমার কথা ভাবলেই
যেন বুকটা ধড়াস করে কেঁপে ওঠে।
মানুষ নামক কিছু হিংস্র জানোয়াররা
তোমায় ছিড়ে খাচ্ছে না তো?
দুবেলা দুইমুঠো খাবার জোটে তো?
নাকি এখনো ভাতের ফ্যান নিয়ে তোমাদের
মেয়ে-বাবার মধ্যে ছলনার অভিনয় চলে?
আজ আর আমিনা নেই...
সমাজের কিছু হিংস্র পশুরা তাঁকে
ছিড়ে খেয়েছে। অভাব, লাঞ্ছনা, ইজ্জতহানি
এসব কিছুই যেন তিলে তিলে গ্রাস
করেছে এই সুন্দর-সরল দশ বছরের শিশুটিকে।
এসমাজে আজও তোমার মত অসংখ্য
আমিনা আছে, যারা আজও তোমার মত
চটকলে কাজ করে, আজও যারা
না খেতে পেয়ে শরীর কেনাবেচা করে,
আজও যাদের নিরাপত্তা অধরা।
আমিনা! এ সমাজ যে তন্দ্রাচ্ছন্ন
তোমাদের রক্তমাখা অশ্রু পারবে কি
তন্দ্রাচ্ছন্ন সমাজকে সিক্ত করতে?
হবে কি তাঁদের তন্দ্রা ছিন্ন-বিন্ন?
একথা আজও আমার জানা নেই আমিনা!
-কল্যান
অসাধারণ একটি লেখা...!! অতুলনীয়, অপূর্ব..
ReplyDeleteঅপূর্ব
ReplyDeleteThis comment has been removed by the author.
DeleteDarun
ReplyDelete