Thursday, 15 June 2017

সীমন্তিনী ও কাব্য কথার দেশে-৬

গোধূলী বেলা...

দেখতে দেখতে কতটা দিন কেটে গেল
হারানো পথ এখনো চোখে খুব স্পষ্ট
তোর ফিরে তাকানো আর পথ হাঁটা
আকাশ দেখা স্বপ্ন বুনে বারবার ফিরে চলি
তোর সাথেই এপার বাংলা থেকে ওপার বাংলার
গ্রাম্য ভালোবাসার স্বাক্ষী হয়েছিলাম
কেমন আছে কুশিয়ারা নদী ?
কেমনই বা আছে সেই সফরের পথচারীরা ?
সেই কাদা মাখা রাস্তাটা কি এখন
পাকা হয়ে গেছে ?
আচ্ছা ওই চায়ের দোকানে কি এখনও মন
মাতানো দই পাওয়া যায় ?
পরোটা হাউসের দোকানে কি এখনও
ওই ছেলেদুটি কাজ করে ?
নাকি তারা এখন বড় হয়ে অন্য কোথাও চলে গেছে !
বরাকের পথে পথে টিলাগুলি কি এখনও
আমার কথা মনে রেখেছে ? নাকি সব স্মৃতি
ধুয়ে মুছে কুশিয়ারায় পথ হারিয়ে ফেলেছে !
কতদিন বরাকের জলে গা ভেজায়নি
অন্নপূর্না ঘাটে কি এখনও বিকালে আড্ডা জমে ?
নাকি সব আড্ডা অস্তাচলের শেষ সীমানায়
খাসপুরের রাজবাড়িতে কি প্রেমিকমন এখনও
ফিরে চলে নরম ঘাসে পা রেখে ?
নাকি সভ্যতার চাপে পড়ে শ্বেতপাথর বসেছে
সমস্ত মাটি জুড়ে
ভাবতে ভাবতেই কখন যেন মেঘের বাড়ির
মেঘ এসে ভিজিয়ে দিল কাপড়-জামা
আমি শুধু আপনমনে চেয়েই রইলাম
আধখানা মেঘ বৃষ্টি হয়ে বরাক কোলে
ঝম্ঝম্ করে পড়তে থাকল ।

কপিরাইট- কল্যান রায়
তাং- ০৬/০৬/২০১৭

কাকতাড়ুয়া-১১

 তিথি জামা ছিঁড়ে গেল
অথচও সেলাইটা এখনও অজানা
এদিকে কত শিক্ষার বানী রোজ
আতসবাজির মত মুখ থেকে ফুটছে
তাতে কি?
সবাই তো সব কিছুই জানে
কতটা অর্থ থাকলে কতটা নিরাপদ
কতটা নেতা সাজলে দশের নিরাপত্তা
এসবই তোর বুকে মাথা রেখে জেনেছিলাম
অভাব শুধু একটাই-বড় হবার স্বপ্ন
কে জানে কবে বড় হব
মাথার ওপর ছাদ আছে বলে ভেবে নিয়েছিস
তুই ছয় ফুটেই আটকে যাবি
কবে বড় হব আমরা কে জানে
নীল আকাশ তো রোজ দেখি
দিন-রাতেরও হিসেব কষি
কতটা দিন গেছে তোর আর
কতটা রাতই বা আমার
তোর অভিমান পাহাড় গড়ে
আমি ভাঙছি আহার
আয়না সেতু গড়ি
একদিন আমরাই হেঁটে পার হব ।।

কপিরাইট- কল্যান রায়
তাং- ০৭/০৬/২০১৭

Tuesday, 13 June 2017

দূর্বা

আমি যখন বড় হব
দুলবো তখন হাওয়ার সাথে ।
সবার সাথে তাল মেলাবো
বলবেনা কেউ গাঁয়ের মেয়ে ।।

চায়ের কেটলি হাতে নিয়ে
এখন ঘুরি পথে-ঘাটে ।
হুইল চেয়ারে বসে একদিন
কাগজ দেখব নেড়ে-চেড়ে  ।।

গাঁয়ের মেয়ে দূর্বা আমি
এমনি করেই কাটছে দিন ।
আর কতকাল বইব আমি
সমাজের এই ম্লেচ্ছ ঘিন ।।

নীল আকাশের নীচে দেখি
কত রঙের মানুষজন ।
দূর্বা দিয়ে পূজা করে
শেষে দেয় যে বিসর্জন ।।

আমারো যে স্বপ্ন আছে
নুপুর পায়ে আলতা মাখার ।
সোনার মেডেল পড়িয়ে দিয়ে
বাহবা দেবে বীর হবার ।।

আমার দেহ দূর্বা কমল
নয় যে অসুর দৈত্য-দানব ।
সবার সাথে তাল মেলাতে
হতেও পারি লৌহমানব ।।

গাঁয়ের মেয়ে দূর্বা আমি
দুঃখ -সুখেই তারা গুনি ।
একদিন ঠিক বড় হব
এই আশারই স্বপ্ন বুনি ।।

কপিরাইট- কল্যান রায়
তাং- ২৬.০৫.২০১৭


Friday, 26 May 2017

সীমন্তিনী ও কাব্য কথার দেশে-১

সীমন্তিনী তোমায় ছোঁয়ার সাধ্য নেই
তোমায় ছাড়া যে আজ কাব্য নেই
সীমন্তিনী এখন তোমার আকাশ জুড়ে
শরৎ মেঘের শিউলি বেলা
ঈশান কোনের ঈশান মনে বসে
ভাসাই শুধু তোমার স্ম‌ৃতির ভেলা
সীমন্তিনী তোমায় চেয়ে
শরৎ মেঘেও বর্ষা নামে
কেন বৃষ্টি?
প্রেমকে আজ ভেজাবে বলে !

তাই কি তুমি মেঘ হলে
মনকে আজ ভেজাবে বলে
হ্যাঁ, তাইতো তুমি বৃষ্টি হলে
বহমান এক নদী হলে
চললে অনন্তকালের যাত্রা নিয়ে
মিলিত হলে সমুদ্র স্রোতে
সীমন্তিনী তোমার জলে ভাসতে চেয়ে
ভেজা মন যায় যে শুকিয়ে
শুকনো মনে এখন শুধুই
তোমার কথা ভেবে
কাব্য রচি জীর্ণ কোনো বেশে ।।

      ---কল্যান রায়

Saturday, 13 May 2017

বসন্ত বিলাপ

নিস্তব্ধ দুপুর
ডাক দিয়ে যায় দূরে ঐ ফেরিওয়ালা
মন কেমন করা দুপুরে একলা প্রেমিক মন
ফিরে চলে মফস্বলে
খুঁজে নেয় গ্রাম্য ভালোবাসা

শহুরে অভিমানী রফিকরা তখন
৯৮.৩-র গল্প শোনে বুক পেতে
পুরনো জীর্ণ কুটিরের কার্নিশে লেগে থাকে
কপোত-কপোতীর একগাল ভালোবাসা
লেগে থাকে স্মৃতির পাখনা হতে খসে পড়া
আলো-ছায়ার ভাঙা-ভাঙা গল্প
যেমন করে কৃষ্ণচূড়া চায় বসন্তকে আর
চাতক ডাকে ফটিক জল-ফটিক জল বলে

জানলার কাঁচে এসে আটকে যায়
তেপান্তরের মাঠ হতে ভেসে আসা
অজানা এক বাঁশির সুর
অভিমানী মন তখন পলাশ হয়ে ওঠে
ঝি-ঝি পোকা আর নাম না জানা পাখির ডাকে
চিলেকোঠায় মন যায় আটকে
রেলিঙ জুড়ে শুধুই নিস্তব্ধতা
তারই মাঝে অমল দইওয়ালারা
হাঁক দিয়ে যায়, আমি জেগে উঠি
আর তারা হারিয়ে যায়
শহরতলির কোনো এক গলির বাঁকে ।।

কল্যান রায়
১৯/০২/২০১৭
৭ই ফাল্গুন, ১৪২৩


Thursday, 11 May 2017

কাকতাড়ুয়া-৫

দিনে জেগে উঠি
রাতে ঘুম
বশ্যতা স্বীকারে জীবন-যাপন
গভীরতা চেয়ে ভেসে ওঠা
ভেসে চলা কর্পূরের মত
মাইলস্টোনের রাস্তা হাঁটা

অায় দেখে যা
কতটা গদ্যে জীবন ভাসে
কতটা ছন্দে নদী চলে
পাহাড় দেখা তো সখ্যতা মাত্র
সূর্য চেয়ে সূর্যপ্রনাম
এই তো জীবন সোনার পাথরবাটি ।।

@কল্যান রায়

Saturday, 18 February 2017

কাকতাড়ুয়া ১

জানো তিথি,
এই কাকতাড়ুয়ার দেশেই একদিন আমি
প্রেমের আঙুল ছুঁয়েছিলাম
ভেবেছিলাম এই পান্তাভাতের থালাতেও
কতই না সুখী আমরা


হাড়হিম করা মধ্যরাতেও উষ্ণতা চেয়ে
তোমায় দেখি, আর ভাবি এই
পূর্ণিমার রাতেও তারারা কত সুন্দর!


বাঁশি বাজাব বলে অনেকবার তোর্ষা তীরে
গিয়ে বসি, সুর আর আসে না
আমার চারপাশে সব যেন মহেঞ্জোদারো
তাদের হাড় আছে কিন্তু মাংস নেই
ঘিলু আছে, মগজ নেই


মরীচিকার মতই সঞ্জীবনী আসে মাঝে মাঝে
আমি দুধ-ভাত চাইনা
শুধু তুমি এসে এই কাকতাড়ুয়াগুলিকে
নাড়িয়ে দিয়ে যেয়ো একদিন ।।


১১-০১-২০১৭
কল্যান রায়