Monday, 6 June 2016

শব্দ

ধূসর গণতন্ত্রে যখন চারিদিক আচ্ছন্ন
তখন শব্দরা উঁকি দেয় খাতার পাতায়
কখনো শব্দরা চলে আমার হাত ধরে নীরবে
কখনো বা একটু উল্লাসে, কখনো বা শুধুই
চলতে থাকে আলো-আঁধারের গলিপথ ধরে
শব্দরা কখনো সেজেছে নারী কখনো বা পুরুষ
কখনো বা শুধুই খাতার পাতায় পাতায়
সেজেছে কথার মালা হয়ে।

কিছু শব্দ ধরা দেয় কবিতা হয়ে
কিছু শব্দ দেয়না ধরা
কিছু শব্দ ঝরায় অশ্রু
কিছু শব্দ ঝরায় রক্ত
আবার কিছু শব্দ শুধুই শহীদ হয়ে
রয়ে যায় পাথরের ফলায়।

কিছু শব্দের আর্তনাদে ভেঙে যায় ঘুম
আবার কিছু শব্দ রয়ে যায় আফিমের
ঘোরে, অথবা বন্দী হয়ে রয় শুধু শিকলে
কিছু শব্দ ভুলে যায় নিজেকে, মিশে
যায় মরীচিকার মতো।

আপন মনে উড়তে উড়তে কিছু শব্দ
হারিয়ে যায় মহাকাশে,
তাঁরা চায় না এই ভূমিতে পদপিষ্ট
হয়ে বিলীন হয়ে যেতে,
তাঁরা চায় না ছিন্নভিন্ন হতে
কোনো মানববোমায়।

তবুও তাঁদের খুঁজে খুঁজে আনি
আমার কবিতার পাতায়
জানিনা কোন আয়োজনে রচি তাঁদের নিয়ে
কিছু শব্দ রয় নীরবে, কিছুটা একটু উল্লাসে
কিছু শব্দ আসে চেতনে কিছুটা বা অবচেতনে
কিছু শব্দ দেয় ধরা, কিছু শব্দ দেয় না ধরা।।

                                                 - কল্যান


Wednesday, 1 June 2016

“বরাক-কন্যা”




কখনো ভাবিনি দেখা হবে আমাদের
ভাবিনি এভাবে আমি ছুটে আসবো তোমার কোলে।
ভাবিনি বিষ্ময় চোখে আমরা তাকিয়ে থাকব
একে অপরের পানে।
 আজ মুখে আমাদের অনেক কথা কিন্তু
বলছিনা কিছুই, আমরা স্তম্ভিত।
ভেবেছিলাম তুমি পারবে কি
আমায় আপন করে নিতে!
ছোট-বড় টিলার সবুজ উপত্যকা গুলো আমায়
যেন খুব যতনে আগলে রেখেছে।
সরু-সরু ধূলিমাখা পথগুলি যেন আমায় নিয়েছে চিনে
আমাদের সাক্ষাত স্বল্প সময়ের হলেও আমাদের
যেন এক নিবীড় যোগ রয়েছে চিরকালের।
বরাকের কোলে সেই উঁচু-নিচু টিলা গুলো যেন
স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সৃষ্টির আদিকাল
থেকে, শুধু আমাদের দেখা হবে এই ভেবে।
টিলার ধারে ধারে আঁকা-বাঁকা পথ বেয়ে
চলেছি আর পেয়েছি সেই মাটির মাতাল করা ঘ্রাণ।
তোমায় দু’হাত দিয়ে জড়িয়ে বুকে আগলে রাখার ইচ্ছে বড়ই।
এখন আমার বেলা ফুরিয়ে গেছে, আবার
আমি যখন এক হাজার বছর পর এই পথ
দিয়ে হেঁটে যাবো, দেখা হবে বন্ধু, দেখা হবে আবার।
                                          
                                                      - কল্যান